রাজাকার ও দুঃশাসনমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংকল্পে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র বিজয় দিবস উদযাপিত

রাজাকার ও দুঃশাসনমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংকল্পে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র বিজয় দিবস উদযাপিত হলো। নিউইয়র্কে ৮টি অনুষ্ঠানসহ নিউজার্সী, ওয়াশিংটন ডিসি, মিশিগান, বস্টন, শিকাগো, টেক্সাস, লসএঞ্জেলেস, ফ্লোরিডা, আটলান্টা, কানেকটিকাট, ফিনিক্স, নিউঅর্লিন্স, আলাবামা, মিনেসোটা, ওহাইয়ো, ক্যানসাসে ৩৫টিরও অধিক বিজয় সমাবেশ হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস মিলনায়তনে প্রবাসের ২২ জন শিল্পীর আট দিনব্যাপী এক চিত্রকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এর উদ্বোধন করেন   স্মিথসোনিয়ান এশিয়ান প্যাসিফিক প্রোগ্রামের পরিচালক  ফ্রাঙ্কলিন এস. ওডো।  চিত্রকলা প্রদর্শনীর সংগঠক প্রবীর দাস গুপ্ত  তার এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, পেইন্টিং বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থের  ৩০% বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত ভাইবোনদের পুনরুদ্ধার কাজে প্রদান করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় নিয়োজিত ইউএস কন্সাল জেনারেল  আর্চার বাড­-এর পুত্র মিঃ পিটার ব­াড (যিনি ১৯৭১ সালের ঐ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময়  পিতার সাথে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন)অনুষ্ঠানে ঐ সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।  এরপর জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মেডিসিনের প্রফেসর উইলিয়াম বি. গ্রিনাউ এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। উলে­খ্য, মিঃ উইলিয়াম ১৯৬২­৬৫ সালের দিকে ঢাকায় কলেরা রিসার্স ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টারের ফাউন্ডিং প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ছয় বছর ধরে ঢাকায় আইসিডিডিআরবি’র  পরিচালক ছিলেন। এছাড়া ডঃ মহসীন সিদ্দিক এবং প্রবাসের জনপ্রিয় কলামিস্ট ওয়াহেদ হোসাইনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।  

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির বিজয় সমাবেশ থেকে বলা হয় যে, একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবি সোচ্চার হওয়ায় এবারের বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে ভিন্ন আমেজে। এ সমাবেশের বিশেষ অতিথি নিউইয়র্কের বড় ধরনের একটি শ্রমিক ফেডারেশনের নির্বাচিত সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল মার্কিন প্রশাসন। কিন্তু আমেরিকানরা ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। সে সময় আমি এখন যে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি, সেই ইউনিয়নের তহবিল থেকে ৩ হাজার ডলার চাঁদা দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সমর্থকদেরকে। ৩৫ বছর পর সেই সংগঠনের নেতৃত্ব দেবে সেই যুদ্ধে স্বাধীন হওয়া একটি রাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট-এটা কী কেউ ভেবেছিলেন? আজ সেই বাস্তবতারই মুখোমুখী সমগ্র আমেরিকা। এ সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন এই সংগঠনের সভানেত্রী নার্গিস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নূল আবেদীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, ডেমক্র্যাট মুর্শেদ আলম, শহীদ পরিবারের সদস্য ফাহিম রেজা নূর প্রমুখ।

বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক শক্তির উদ্যোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স প্ন্যাসে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়।

খবরঃ এনা।

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!