বিশ্বের ১৭ সিটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন ও জামাতকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মানববন্ধন
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইটালী, জাপান, অস্ট্রিয়া, নিউজিল্যান্ড, লন্ডনসহ বিশ্বের ১৭টি সিটিতে ১৫ ডিসেম্বর একযোগে অনষ্ঠিত মানববন্ধনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন, জামাতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, সামনের নির্বাচনে জামাতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের পরিচালিত সকল তহবিল, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী, এনজিও এবং শিক্ষামূলক প্রকল্প সরকারের বরাবরে বাতিল, সরকারী চাকরি থেকে জামাতীদের অপসারণ, জামায়াতে ইসলামী দলের সাথে সম্পৃক্ত সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থককে সামাজিকভাবে বয়কট এবং বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ কায়েমের দাবি জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রস্থ ‘ফেডারেশন অব অর্গনাইজেশন্স এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল্্স’ নামক একটি সংগঠনের ডাকে বিশ্বব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।
জাতিসংঘের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের এস্টোরিয়ায় এথেন্স পার্কে মূল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এখান থেকে ‘ফেডারেশন অব অর্গনাইজেশন্স এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল্স’র অন্যতম আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নূরন্নবী বার্তা সংস্থা এনাকে জানান যে, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, ইটালী, টোকিও, নিউজিল্যান্ড, পেরিস, ওয়াশিংটন ডিসি, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, বস্টন, আটলান্টা, টরন্টো, মন্ট্রিয়লে একযোগে মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানবন্ধন থেকে চলমান গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়। সকল দেশের গণস্বাক্ষরের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রস্তুতকৃত স্মারকলিপি প্রদান করা হবে জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, মার্কিন কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডা পার্লামেন্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী মহলের কাছে।
হাড় কাঁপানো শীতের মধ্যে অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের সমাবেশ থেকে কেয়ারটেকার সরকারসহ অঅন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে ৮টি দাবিনামা পাঠ করা হয়। এগুলো পাঠ করেন ‘ফেডারেশন অব অর্গনাইজেশন্স এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনাল্্স’র অপর আহবায়ক সৈয়দ মুহম্মদউল্নাহ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লেখক বেলাল বেগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডঃ সিদ্দিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাকিকুল ইসলাম খোকন, ঐক্য পরিষদের সভাপতি রতন বড়ুয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিতাংশু গুহ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী মনিরুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর সহসভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাস, স্বাধীনতা চেতনামঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হেলাল মাহমুদ, শেখ হাসিনা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক বাদল আকন্দ এবং সদস্য-সচিব কায়কোবাদ খান প্রমুখ।
বেশ কয়েকজন মহিলা এবং শিশুও এসেছিলেন একাত্তরের ঘাতকদের বিচার দাবি সংবলিত পোস্টার-পে্নকার্ড বহন করে।
মানবন্ধন থেকে ঢাকায় সেক্টর কমান্ডার ফোরামের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। জামাতীদের ব্যাপারে বিএনপির মূলধারাসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির মধ্যে সৃষ্ট অঘোষিত ঐক্যের প্রশংসা করেন মানবন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
খবরঃ এনা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments