যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙ্গালিদের মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসাবে শনিবার সিডনির কর্মসূচি পালিত হয়েছে ইষ্টলেকের একটি মিলনায়তনে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অষ্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে সিডনির কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে অষ্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার, সেক্টর কমান্ডারদের নেতৃত্বে নতুন যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেটিকে সমর্থন দিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের অতিথিদের সহ সিডনিতে এ ব্যাপারে একটি ওয়ার্কশপ ও রাউন্ডটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে। সমাবেশের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সংঘটিত গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মরনে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অষ্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি গামা আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে মানবন্ধন পূর্ববর্তী সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত। সংগঠনের অষ্ট্রেলিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক টিটো সোহেলের পরিচালনায় সভায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট ড. শামস রহমান, মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশীদ আজাদ, স্বদেশবার্তার সম্পাদক লুৎফুর রহমান শাওন, বার্তা সম্পাদক কায়সার রহমান, মলি আহমেদ, নির্মুল কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, আল নোমান শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ড. রোনাল্ড পাত্র, লাভলী মোস্তফা, জিয়া আহমেদ, আব্দুল হাকিম, মেহেদী হাসান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূচনা বক্তব্যে গামা আব্দুল কাদির যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবার সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনের পাশাপাশি স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের সামাজিকভাবেও চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশের অনেক মিডিয়ায় এখনও মতিউর রহমান নিজামী সহ স্বৃীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের যথেষ্ট মর্যাদা তমিজের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। গুরুত্ব দিয়ে এদের বক্তব্য উল্লেখ করে লেখা হয় ‘তিনি বলেছেন’। যে সব পত্রিকা বা মিডিয়া এসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে এদেরও এ ধরনের ভূমিকা বেদনাদায়ক। মতিউর রহমান নিজামীর মতো লোকজনকে নিয়মিতভাবে ‘মইত্যা রাজাকার’ই লিখতে, বলতে হবে। এভাবে এদেরকে ক্রমাগত সামাজিকভাবে চিহ্নিত করে রাখতে হবে।
ড. শামস রহমান বক্তৃতার চাইতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিদেশ থেকে এদেশের সরকার ও সুশীল সমাজকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে এসে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে রাষ্ট্র চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আয়োজন করতে বাধ্য হয়। রাষ্ট্র যাতে এ ধরনের অপরাধীদের পক্ষে না দাঁড়ায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অজয় দাশগুপ্ত বলেন, নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়নের কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যা কিছু তা একাত্তরেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এখন যেটি নিশ্চিত করতে হবে তাহলো একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী খুনি, ধর্ষক এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। এরজন্যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষশক্তি দেশে বিদেশে যে যেখানে আছেন সমন্বয়ের ভিত্তিতে তাদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কম্বোডিয়ায় পলপট সরকারের সহযোগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফিউ সাম্পানকে সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। জার্মান রেডিও’র জনপ্রিয় টকশো উপস্থাপক ফিনলি মিথেসি নাৎসীদের সমর্থন করে একটি শব্দ ব্যবহারের দায়ে চাকরি হারিয়েছে। সে কয়েকদিন ঘরের বাইরে পর্যন্ত বেরুতে পারেনি। দেশে দেশে যেখানে এতসব কাজকর্ম চলছে আমরা আমাদের দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারব না কেন? তিনি প্রশ্ন রাখেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রেলিয়া শাখা কমান্ডের মহাসচিব হারুনুর রশীদ আজাদ বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্ব কে দেবে কারা দেবে এটি একাত্তরে ঠিক হয়ে গেছে। রাজাকার আলবদররা সামরিক শাসক আর স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকদের সহযোগিতায় শুধু পিছনের দরজা দিয়েই ক্ষমতায় প্রবেশ করতে পারে। এরা যাতে আর সে সুযোগও না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। স্বদেশবার্তার সম্পাদক লুৎফুর রহমান শাওন বলেন ছত্রিশ বছর ধরে আমরা শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে কথা বলে আসছি। এখন কথার চেয়ে কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বাধীনতাপন্থী নামে আন্দোলনের ভিতরে ঢুকে যারা আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করছে তিনি তাদের ব্যাপারে সতর্ক হতে বলেন। মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। আল নোমান শামীম বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন হবার পরও এখন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ না নেবার ঘটনাটি দূর্ভাগ্যজনক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক বাংলা।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments