নকশিকাঁথার প্রদর্শনী নিউ ইয়র্কে সাড়া জাগিয়েছে
বিজয় দিবসের আলোকে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি মহিলাদের হস্ত ও কুটির শিল্প প্রদর্শনীর অনন্য একটি কর্মসূচি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব মহিলাদের তৈরি কাপড়-কাথা ইত্যাদির বাজার আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও বিস্তারের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কেননা এ প্রদর্শনীতে ইউনিসেফের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। নকশিকাথা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। এসব কাথার কদর আধুনিক ফ্যাশনে বৈচিত্র্যের পরশ জোগাবে বলে ইউনিসেফের সিনিয়র উপদেষ্টা ড. কেয়ডা ওয়েবাইট প্রদর্শনী কেন্দ্রে বার্তা সংস্থা এনার কাছে মন্তব্য করেছেন। উল্লেখ্য, কেয়ার বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছর কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনকারী বর্তমানে প্রবাসী ফরিদা ইয়াসমীনের উদ্যোগে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ প্লাজায় ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় এ প্রদর্শনী। নকশিকাথা, কুশন কভার, অ্যাপলিক শাড়ি, সালোয়ার-কামিস, তাতের শাড়ি, কুমিল্লা বুটিক, টাঙ্গাইল শাড়ি এবং বিজয় দিবসের আলোকে লাল-সবুজে আচ্ছাদিত শাড়ি ও সালোয়ার-কামিস স্থান পায় এ প্রদর্শনীতে। আরো উল্লেখ্য যে, নিউ ইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বেশ কিছু কাপড়ের দোকান থাকলেও কেবল ‘আড়ং’ ছাড়া অন্য কোথায়ও হাজার বছরের গ্রামীণ ঐতিহ্যের পরিপূরক এবং গরিব মহিলাদের তৈরি এসব পণ্যের তেমন বাজারজাত হয়নি এখনো। গত তিন বছর সার্ভে চালানোর পর ফরিদা ইয়াসমীন বিশেষ এই উদ্যোগটি নিয়েছেন। মিসেস ফরিদা এনাকে জানান, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন মেট্র, আটলান্টা, ফ্লোরিডা, লস এঞ্জেলেস, বস্টন প্রভৃতি এলাকায় বাংলাদেশি মহিলাদের হস্ত ও কুটির শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। এছাড়া নকশিকাথার বাজার রুচিশীল আমেরিকানদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা আমি দেখেছি। এটি যদি আমি করতে পারি তাহলে ব্যক্তিগতভাবে যেমন লাভবান হবো, ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মহিলাদের রুটি-রুজির পথও প্রশস্ত হবে। শুধু তাই নয়, আমেরিকাতেও আমাদের অনেক বোনেরা ঘরে বসে এসব করতে পারলে সেটি হবে আরো বেশি সুবিধা। তারা এখন হাড় ভাঙা খাটুনি খেটে যে অর্থ পাচ্ছেন তার চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন সংসারের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও। মিসেস ইয়াসমীনের এ উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. মিনা ফারাহ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের অবহেলিত জনপদের মহিলাদের স্বার্থে কিছু করতে পারলে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করবো।
ইউনিসেফের উপদেষ্টা ড. কেয়ডা বলেছেন, আমেরিকায় নকশিকাথার বাজার সম্প্রসারণে আমরাও চেষ্টা করে দেখবো। দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে এ ব্যাপারটি। প্রদর্শনী কেন্দ্রে মিসেস ইয়াসমীন আরো বলেন, বিজয় দিবসের চেতনা থেকেই আমার এ উদ্যোগটিকে প্রবাসীরা লুফে নিয়েছেন।
সূত্রঃ যায়যায়দিন, ডিসেম্বর ১৭, ২০০৭
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments