উদীচী স্কুলের বিজয় দিবস ও বার্ষিক অনুষ্ঠান উদ্যাপিত
৯ই ডিসেম্বর রবিবার আই এস-২৩০ জ্যাক্সন হাইটস্ উদীচী স্কুলে উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এবং উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় দিবস ও বার্ষিক অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হয়। বিকেল সাড়ে তিনটায় উদীচীর সভাপতি ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কার্যক্রমের সূচনা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন বিভাগের উপস্থাপনায় বার্ষিক অনুষ্ঠান ও বিজয় দিবসের গান, নৃত্য, টেলেন্ট সো, কবিতা ইত্যাদি পরিবেশিত হয়।
’স্বরে স্বরে স্বরবর্ণ এবং ব্যাঙের ছড়া’ পরিবেশনায় আংশ গ্রহন করে আয়শা, সাবাব, কারিমা, মৃদুলা, আনিসা, তামিন, আহনাভ, আকিব, নাভিব, জয়, অর্পিতা, রামিসা, ফাইজা নাজিফা, জেবিন। উপস্থাপনা ছিলেন আলপনা গুহ ও সুলতানা বাসিত মুন্না।
রবীন্দ্র নাথের ’ছুটি’ কবিতাটি যৌথভাবে পরিবেশন করে নন্দিতা, দিব্য, নামিসা, প্রজ্ঞা, রুমানা, সারা, মিথিলা ও পূজা। উপস্থাপনা করেন টগর ও সুমন সরদার।
পদ্মা ও মেঘনা নামে দুই গ্রুপের জ্ঞানের লড়াইতে আংশ গ্রহন করে পদ্মা, অর্জুন, ভিক্টর, শাকিব, সাদিয়া, তিন্নি, অর্ঘ, ধ্রুব, পারমিতা, উদিতা, অধরা, শিল্পী, রায়হান ও ময়ূরী। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিচালনায় ছিলেন বেলাল বেগ, সহযোগিতায় ছিলেন রানু ফেরদৌস।
নৃত্যে অংশ গ্রহন করে অন্তরা, নিশি, ঐশি, ময়ূরী, অধরা, সারা, উদিতা ও মৃদুলা। পরিচালনা করেন নৃত্য বিভাগের শিক্ষক অনুপ দাস।
তপন মোদকের পরিচালনায় তবলায় ছিল অর্জুন ও দীপ্ত রায়।
জীবন বিশ্বাসের পরিচালনায় কী-বোর্ডে ছিল সেজুতি, কারিয়া ও শারমিন।
দ্বিতীয় পর্যায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে আলোচনা সভায় অংশ গ্রহন করেন মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কাশেম আলী, তাজুল ইমাম, আ হা মহীউদ্দিন, ডাঃ ওয়ালেদ চৌধুরী, বেলাল বেগ, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, অধ্যাপক আলী আনোয়ার ও ড. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। পরিচালনা করেন উদীচীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুলাল ভৌমিক।
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা পাঠ করেন শরফুদ্দিন মুকুল ও তাজুল ইমাম। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের উপর তাজুল ইমামের লেখা বইয়ের উপর আলোচনা করেন বেলাল বেগ, দুলাল ভৌমিক ও সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এ অংশে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাসের পরিচালনায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গণসংগীত পরিবেশন করেন। অংশ গ্রহণ করেন সাবিনা হাই উর্বি, সুলতানা বাসিত মুন্না, আলপনা গুহ, কাজী মন্টু, রীতা, টগর, লাকী, জয়ন্তী ভট্টাচার্যø,সীমা, ডরিন, রিনু, সুমন সরদার ও তানিয়া।
আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধারা তাদের স্মৃতি তর্পন করে বলেন, মোটা ভাত, মোটা কাপড় এবং দেশের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক একটি সরকার হউক এর বেশি কোন বাড়তি প্রত্যাশা ছিলনা। আজকে মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে অবহেলিত সেটা জাতির জন্য চরম অবমাননাকর। অন্যান্য বক্তরা বলেন স্বাধীনতার ৩৬ বছরেও আমরা স্বাধীনতা বিরোধী খুনীদের বিচার করতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। বিভিন্ন সময় বিচারের দাবী ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু আমাদের দুর্বলতার কারণে কার্যকর হতে পারেনি। আজকে পুনরায় নতুন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী উঠেছে। সেক্টর কমাণ্ডারসহ দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষ একত্রিত হয়েছে। আমরা যারা বিদেশে আছি তাদেরকেও একত্রিত হয়ে তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিচারের দাবী উঠাতে হবে। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বক্তরা বলেন আমরা যদি স্বাধীনতা বিরোধী খুনীদের বিচার করতে ব্যর্থ হই সেটা হবে শহীদের রক্তের প্রতি অবমাননা। এ প্রসঙ্গে আগামী ১৫ই ডিসেম্বর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঙালীদের সাথে যোগযোগের মাধ্যমে এক সাথে একই সময়ে যে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে সকলকে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সূত্রঃ এনওয়াই নিউজ, নিউইয়র্ক।
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments