বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সিডনিতে হয়ে গেল বর্ণাঢ্য বাংলাদেশ নাইট
সিডনির লাকেম্বায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বাংলাদেশ নাইট। ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার লাকেম্বার সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অষ্ট্রেলিয়া আয়োজিত বাংলাদেশ নাইটে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙ্গালী। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দেশের বন্যা কবলিত মানুষজনকে সহায়তার জন্যে প্রবাসীদের মুক্তহস্তে সাহায্যও গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত চলেছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৈশভোজ। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙ্গালী পরিবারগুলোর একটি সম্মিলনিতে পরিণত হয়। অষ্ট্রেলিয়ার মতো উনড়বত পাশ্চাত্য দেশের লাইফ জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এখানে বর্ধিষ্ণু সমপ্রদায় হিসাবে প্রবাসী বাঙ্গালীদের কঠিন কষ্টের জীবন চলে। বাংলাদেশ নাইটের সম্মিলনিতে এসে প্রবাসী পরিবারগুলো পরষ্পরের সঙ্গে দেখাশুনা, গল্পগুজবের পাশাপাশি বাঙ্গালী সংস্কৃতির ছোঁয়া পেয়ে অন্তত কিছটাু সময়ের জন্যে হলেও কষ্ট ভুলে থাকতে পেরেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়ার সভাপতি রবিন বনিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রেস্তাদুল ইসলাম, লেবার পার্টির প্রভাবশালী এমপি এবং সমবায় বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী লরি ফারগুসন, বাংলাদেশের অনারারী কনসাল এ্যান্থুনি কুরি, মেরিকভিল সিটি কাউন্সিলর সাঈদ খান, এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান ও প্রাক্তন সহ-সভাপতি মনসুরুর রহমান, অধ্যাপক রফিুকল ইসলাম, ব্যারিষ্টার সিরাজুল হক, বাসবূমি সম্পাদক আকিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের প্রাক্তন সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান খান, ড. মাকসুদুল বারী, মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব, মাসুদ চৌধুরী, ড. আব্দুল ওয়াহাব বকুল, এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। উপস্থাপনায় ছিলেন হাসড়বাহেনা এবং অদিতী।
ইষ্টলেকস পাবলিক স্কুলের বাংলা শিক্ষক সেলিনা আক্তার তাঁদেরকে কিছু বাংলা বই সরবরাহের জন্যে ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অনুরোধ করে চিঠি লিখেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রিস্তাদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের সৌজন্যে পাওয়া বইগুলো শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারের হাতে তুলে দেন। বইগুলো পেয়ে আনন্দিত প্রবাসী শিক্ষিকা বলেন, এসব বই সিডনি সহ অষ্ট্রেলিয়ার আরও যেসব স্কুলে বাংলা পড়ানো হবে সে সব স্কুলকেও দেয়া হবে।
বক্তৃতা করতে এসে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়ার গৌরবের ইতিহাস বলেন সিডনির জনপ্রিয় অনলাইন ম্যাগাজিন বাসভূমি’র সম্পাদক আকিদুল ইসলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চার-পাঁচজন প্রবাসী বাঙ্গালী মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেন। সেই চার-পাঁচজন প্রবাসী বাঙ্গালীর সেই আন্দোলনটি অষ্ট্রেলিয়ার মূলধারা মানুষজনকে এতটাই প্রভাবিত করেছে যে তখন প্রতিটি ট্রেন-বাস স্টেশনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তার আবেদন জানিয়ে ব্যানার টাঙ্গানো হয়েছে। এসবের প্রভাবে পাশ্চাত্য দেশগুলোর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়াই প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশকে। আকিদুল ইসলাম তাঁর সন্তোয় জানিয়ে বলেন, আজ রবিন বনিকের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়া। অনুষ্ঠানে সব বক্তৃতাই ছিল শুভেচ্ছামূলক। এমপি লরি ফারগুসন সিডনির আরও বেশি সংখ্যক স্কুলে বাংলা পড়াশুনার সহায়তার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ নাইটের সুযোগে রবিন বনিকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব অষ্ট্রেলিয়ার নবনির্বাচিত প্যানেল সদস্যদের মঞ্চে অভিষেকও হয়েছে। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অণুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন অরিত্রি বড়ুয়া, আজিজ, চাঁদনি ও তাসিন মঞ্জুর। রফিকুল ইসলাম, আদনান, রিফাত ফাতেমা বিতা, নওশীন, অভি, রাজিব, স্বচ্ছ, শামীমার গান সমবেতদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কৌতুক পরিবেশন করেন রবিন।
সূত্রঃ সোনার বাংলা রিপোর্ট, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।
Evergreen Bangla Community


Post Your Comments