সোনালী এক্সচেঞ্জের ১৩ বছর - অনেকেই ফিরে যাননি
নিউইয়র্ক তথা সারা আমেরিকায় সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপনের কোন আবেদনই করা হয়নি ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টে। এছাড়া ১৩ বছরে সোনালী এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন পদে যোগদানের জন্য ঢাকা থেকে যারা এসেছিলেন তাদের অনেকেই আর ফিরে যাননি দেশে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রবাসীদের স্বার্থে অনলাইন ট্রাঞ্জেকশনের অঙ্গিকার করেছিলেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে তা সেই অর্থমন্ত্রীর ছাড়পত্র পায়নি তার কর্মকালের শেষ দিন পর্যন্ত। নিউইয়র্ক থেকে যথানিয়মে আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে, আবেদনটি সোনালী ব্যাংক হয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ে ফাইলচাপা পড়ে রয়েছে।
৯/১১-এর পর কড়াকড়ি হওয়াতে কয়েকবার সোনালী এক্সচেঞ্জের একাউন্ট পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে আমেরিকার একটি ব্যাংক। এরপর ব্যাংক পালটানো হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকি কমেনি। যে কোন সময়ে আবারো সংকটে পড়তে পারে সোনালী এক্সচেঞ্জ। এহেন দুশ্চিন্তা থেকে স্থায়ী মুক্তির স্বার্থেই সোনালী ব্যাংকের একটি পূর্নাঙ্গ শাখা স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রবাসের সুধীজন।
অপরদিকে এজেন্ট নিয়োগের বিকল্প হিসাবে অনলাইন ব্যাংকিং চালু করা হয়েছিল (http://www.sonaliexchange.com) । কিন্তু যারা দেশে টাকা পাঠান তাদের অনেকের ব্যাংক একাউন্ট বা সোসাস সিকিউরিটি নাম্বার না থাকায় এ ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ অনলাইনের মাধ্যমে অনেক কম সময়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই টাকা পাঠানো সম্ভব। এতে ঘরে বসে যে কোন সময় টাকা পাঠানো যায়, লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না। জানা গেছে, যেখানে ৮টি শাখার মাধ্যমে দৈনিক গড়ে ৪০০ জন টাকা পাঠান, সেখানে অনলাইনে মাত্র ১৫ জন টাকা পাঠাচ্ছেন।
এদিকে সোনালী এক্সচেঞ্জের ১৩ বছর বয়সে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকাস্থ সোনালী ব্যাংকের হেড অফিস থেকে আগত ৩ জনের মধ্যে ২ জনই আমেরিকায় থেকে গেছেন। এছাড়া সোনালী এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে আগতদেরও অন্ততঃ ৩ জন দেশে ফিরে যাননি। এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নিকট ভবিষ্যতে সোনালী এক্সচেঞ্জের বিপরীতে ভিসা প্রাদানে স্টেট ডিপার্টমেন্টঁ কঠোর হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
সূত্রঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা। আগস্ট ৩১, ২০০৭
Evergreen Bangla Community



হুম্ম্… খবরটি আরো বড় ছিল। ঠিকানা পত্রিকায় পড়েছিলাম। এরকম একটি খবর গত ঈদের সময়ও বের হয়েছিল। তখন জ্যাকসন হাইটস ব্রাঞ্চে সার্ভিস দিতে না পেরে ব্রাঞ্চ কোন প্রকার কারণ দর্শানো ছাড়াই বন্ধ করে দিয়েছিল। অথচ সবাইকে যদি বলে দিত যে অনলাইনে টাকা পাঠাতে লাইনে দাঁড়াতে হয় না, ঘরে বসে যে কোন সময়ই টাকা পাঠানো যায়। তখন অফিস হেড ছিলেন আছাদ। তার মেয়াদ এখন শেষ,কিন্তু দেশে ফিরে না গিয়ে নিউইয়র্কেই একটি ব্যাংকে কাজ নিয়েছেন, জানা-শোনা কাউকে পেলেই তার ব্রাঞ্চে একাউন্ট খোলার জন্য বলছেন। অথচ সোনালী এক্সচেঞ্জের সম্প্রসারণে কোন প্রচেষ্টা ছিল বলে মনে হয় না। অন্ততঃ অনলাইনে একাউন্ট খুলে টাকা পাঠাতে মানুষকে উৎসাহিত করতে পারতেন। পত্র-পত্রিকায় যখন সোনালী এক্সচেঞ্জের বিজ্ঞাপন দিতেন তখন অনলাইনের কথা কোথাও থাকত না। তবে এতে আরো এক জনের হাত আছে বলে মনে হয়।
তিনি হচ্ছেন সাজ্জাত। তখন আই.টি হেড ছিলেন। এখন প্লাস ভারপ্রান্ত হেড। এও শুনেছি গ্রীন কার্ড বাগিয়ে আমেরিকায় থাকার ব্যবস্থা পাকা করে নিয়েছেন। যারা অনলাইনে টাকা পাঠাতে চান তাদেরকে আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের তথ্যের সত্যতা প্রমাণ স্বরূপ সবাইকে ব্যাংকের একটি চেকের ভয়েড কপি, সোস্যাল সিকিউরিটি কার্ড, ফটো আই.ডি ইত্যাদির একটি ফটোকপি সোনালী এক্সচেঞ্জের হেড অফিসে ফ্যাক্স করে বা মেইল করে পাঠাতে হয়। সাজ্জাত সেহেতু আই.টি বিভাগে আছেন, তাই তাকেই এসব মিলিয়ে সবার একাউন্ট একটিভ করে দিতে হয়। কিন্তু সে এ কাজ করতে প্রচন্ড বিরক্ত। তাই চান না যে অনলাইনে বেশি মানুষ রেজিস্ট্রেশন করুক। এছাড়া মানুষ যখন অনলাইনে টাকা পাঠায়, তখন সে টাকা তাদের একাউন্ট থেকে কেটে নিয়ে সোনালী এক্সচেঞ্জে জমা করার দায়িত্বও আই.টি বিভাগে বিশেষ করে সাজ্জাতের উপর বর্তায়। সুতরাং এই কাজের চাপ এড়াতেই কি চান না যে অনলাইনে সাফল্য আসুক!
অনলাইন সিস্টেমে আরেকটি সমস্যা হল- কোন কাস্টমার যদি নতুন কোন ব্যাংক একাউন্ট যোগ করেন তাহলে এই নতুন একাউন্ট ভেরিফাই না হওয়া পর্যন্ত তার একাউন্ট সাময়িক ভাবে ডিএক্টিভ থাকে। তখন আবার ব্যাংকের ভয়েড চেকের কপি সোনালি এক্সচেঞ্জের হেড অফিসে পাঠাতে হয়। এ তথ্যটা অনেকে জানেন না বলে ইমেইল করে জানান যে তারা টাকা পাঠাতে পারছেন না। তখন সেই মেইল গুলোর উত্তরে তথ্য গুলো জানিয়ে দিতে হয়। এই মেইলের উত্তরটাও তারা দিতে চান না বলে অনেকে অভিযোগ করেন। এর পর তারা ফোল করেন, কিন্তু ফোনেও তারা উত্তর পান না বরং অন্য একজনের পারসোনাল ফোন নাম্বারে ফোন করে জেনে নিতে বলেন। অথচ কাজটি সোনালী এক্সচেঞ্জের আই.টি বিভাগের, যারা অনলাইন সিস্টেমটি ডিজাইন করেছেন- তাদের নয়।
কয়েকদিন আগে রেজিস্ট্রেশন করেছি। দরকারী ডকুমেন্টের ফটোকপিও পাঠিয়েছি। কিন্তু টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখি একাউন্ট এক্টিভ না। পরে কল করতে করে বুঝতে পারলাম যে পাঠানো ডকুমেন্টগুলো সেভাবেই পড়ে আছে। দেশে হলে না হয় বুঝতে পারতাম, কিন্তু এই আমেরিকায় এসেও যদি এধরনের মনোভাব না পালটায় তাহলে…নাহ! মুখে খারাপ কথা এসে যাচ্ছে।