সিডনী নাচিয়ে গেল টপ টেন (নাইন)
দেশ থেকে শিল্পী এনে অনুষ্ঠান করা এখন বেশ নিয়মিত ঘটনা। প্রতি মাসেই কেউ না কেউ আসছেন। আগের মত হল উপচে পরা দর্শক হচ্ছে না কিন্তু অনুষ্ঠানের সংখ্যা তাতে কমেনি। এ অবস্থায় এক জন নয় দুই জন নয় দশ দশ জন শিল্পী এনে অনুষ্ঠান তাও আবার একদিন নয় জন ক্লান্সির মত বড় হলে পর পর দুইদিন। খুব অবাক হয়েছিলাম আয়োজকদের দুঃসাহস দেখে। ২য় দিন, ১লা এপ্রিল, দেখতে গিয়েছিলাম এন টিভির ছাকনি দিয়ে বাংলাদেশের আনাচ কানাচ থেকে তুলে আনা দশ জন সুপ্ত প্রতিভার গান শুনতে। অবশ্য দশ জন বলা ঠিক হবে না। নিশিতা আসতে পারেননি। তাই টপ টেন না বলে টপ নাইন বলাই শ্রেয়।
হলে পৌছে দেখি বাইরে তেমন লোকজন নেই। সব কেমন ফাকা ফাকা লাগছে। ভাবছি এবার হলো তো। আজকাল এক অনুষ্ঠানেই লোক হয় না- তারপর আবার পর পর দুই দিন! অভ্যর্থনা এলাকায় ঢুকতেই ভুলটা বুঝতে পারলাম। অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। আমরা ১৫ মিনিট লেট। সঠিক সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য মনে মনে অজবেন কে অভিনন্দন জানিয়ে অপরাধির মত হলে ঢুকলাম। আমাদের নির্ধারিত আসনে অন্য লোক বসে পড়েছে। কি করবো ভাবছি। এমন সময় অজবেন কর্ণধার গোলাম মোস্তফা কাছে এসে বললেন এই সারির যেকোনো সিটে বসতে পারেন। তখন মঞ্চে বাধন তার ২য় গানটি পরিবেশন করছেন। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি বেশ কিছু সিট তখনও খালি। যারা ১৫ মিনিটের বেশী লেট করেছেন তাদের সিট গুলো তখনও শুণ্য। তবে বেশীক্ষণ সেগুলো শুণ্য ছিলনা। হল বড় হোক আর ছোটই হোক ভতির্ না হলে মন ভরে না। দর্শকদেরও না শিল্পীদেরতো নয়ই।
একে একে শিল্পীরা মঞ্চে এলেন। গান গাইলেন দু'টি করে যতই শিল্পী আসছেন দর্শকদের উত্সাহের মাত্রা ততই বাড়ছে। বাড়ছে উত্তেজনা। বুঝলাম জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে একজন অরেকজনের ওপরে। সবশেষে মঞ্চে এলেন শীষর্ স্থান বিজয়ী শিল্পী সালমা। চিত্কার আর হাত তালিতে ফেটে পড়লো হল ভতির্ দর্শকরা। স্ত্রী আর কন্যার চাপে পড়ে মাঝে মাঝে চ্যানেল টেন এ অষ্ট্রেলিয়ান আইডল দেখেছি। দেখেছি শ্রেষ্ঠত্বকে বরণ করতে তারুণ্যের উচ্ছাস। সংগীত আর সংস্কৃতির জোয়ার ভাসিয়ে নিয়ে গেল সব দূরত্ব, সব ব্যবধান। মনে পড়ে গেল অপেরা হাউসে অষ্ট্রেলিয়ান আইডলের ফাইনাল শো এর কথা। গান শুনছি - আমার সামনে দাঁড়িয়ে ১২ কোটি মানুষের ভালোবাসা -
বাংলাদেশ আইডল, সালমা।
প্রথম পর্বের পর ছিল ২০ মিনিটের বিরতী। ভাবলাম গ্রীনরুমে গিয়ে ওদের একটা গ্রুপ ছবি তুলতে পারলে মন্দ হয় না। মঞ্চের পেছনে গিয়ে দেখি আমার মত আরো কিছু ছবি শিকারী ভিড় করে দাঁড়িয়ে। কিন্তু শিশু কন্যা ঋষিতাকে কোলে নিয়ে দরজায় গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন জন মার্টিন। ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। কি আর করা ফিরে আসতে হলো। অবশ্য অনুষ্ঠানের শেষে সুযোগ পাওয়া গিয়েছিলো।
বিরতীর পর আবার অনুষ্ঠান শুরু হলো। আবার একে একে মঞ্চে এলেন শিল্পীরা। দর্শক নাচানো গান গেয়ে মাত করলেন অনুষ্ঠান। তারুন্যের সে কি প্রাণঢালা উচ্ছাস। ওদের আনন্দ দেখে ভালোলাগলো। অয়োজকদের ধন্যবাদ। এমন অপূবর্ একটি অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য।
- আনিসুর রহমান, সিডনি।

Evergreen Bangla Community


Post Your Comments