বিয়েল এস্টেট প্রতারনায় লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশী সাইদা শ্রীঘরে
সাইদা মইন (৪৪) ওরফে সৈয়দা সুফিয়া আক্তার রানী, নিউইয়র্কে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে স্বদেশীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ ডলার। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে এখন জেল-হাজতে বিচারাধীন রয়েছেন। ‘নিউইয়র্কে একটা নামকরা হাইস্কুলে পড়ে মেয়েটি। ছেলেটিও উঠন্ত বয়েসী। আমাকে যদি বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আপনারা ব্যবহার করেন তাহলে পিতৃহারা সন্তান দুটির প্রবাস জীবন সার্থক হবে- এমন সব মন গলানো কথায় লোকজনকে প্রভাবিত করে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে বিশ্বাসঘাতকতার পথেই তিনি বিচরন করেছেন বলে অনেক ভুক্তভূগীর মন্তব্য। তাদের আরো মন্তব্য যে নিজের জীবিত স্বামীকে মৃত বলে প্রচার করে তার জন্য এখন কেবল করুনাই হচ্ছে। এসব কথা বলেছেন লাইসেন্সবিহীন রিয়েল এস্টেট ব্রোকার সাইদা মইন কর্তৃক প্রতারিত হওয়া বাংলাদেশীদের ৪ জন।
রিয়েল এস্টেট প্রতারণা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। এস্টোরিয়া থেকে তাজুল নামক এক বাংলাদেশী জানিয়েছেন যে তিনি ইমিগ্রেশন সমস্যায় রয়েছেন। এটি জানতে পেরে সাইদা মইন তাকে জানান যে তিনি কানাডার সিটিজেন হয়েছেন। এরপর তার ভাইকে কানাডার ইমিগ্রান্ট করার জন্য স্পন্সর করেছিলেন কিন্তু তিনি কানাডা আসতে চান না। এ অবস্থায় তাজুল যদি তাকে ৩০০০ ডলার দেন তাহলে তার সমস্ত কাগজপত্র এমনকি তার ভাইয়ের নামে পাসপোর্ট করবেন যাতে ছবি থাকবে তাজুলের। এসহায় তাজুল তাতেই রাজী হয়ে যান এবং ২ বছর আগে তাকে ৩০০০ ডলার দেন। তার ছবি নিয়ে নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে গিয়ে বাংলাদেশের বহুল বিতর্কিত সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর ছোট ভাইয়ের সহযোগিতায় তাজুলের জন্য একটি পাসপোর্ট করেন। তাজুল বলেন, এরপর ২০০৫ সালের ১৬ মে আমাকে নিয়ে মিসেস সাইদা মইনের বাফেলোতে যাবার কথা। ঐ দিন আমি তৈরী হয়েছিলাম কিন্তু আজ অবধি তার আর খোঁজ পাইনি।
বিচারাধীন মামলা সম্পর্কে মিসেস মইনের এটর্নী মিস কমি রাসেল বলেছেন, এটি একটি দেওয়ানী মামলা। এতদসত্ত্বেও এতা ক্রিমিনাল কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে আমার মক্কেল দোষী নন।
সূত্রঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা, মার্চ ৩০, ২০০৭
Evergreen Bangla Community
Post Your Comments