সোনালী এক্সচেঞ্জঃ অনিয়মই যেখানে নিয়ম

সোনালী এক্সচেঞ্জ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অনিয়মই নিয়ম বলে অভিযোগ প্রবাসীদের। প্রবাসী বাংলাদেশীরা একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশে টাকা পাঠিয়ে থাকেন। ঈদ বা পূজা উপলক্ষে বেশী অর্থ পাঠিয়ে থাকেন বলে এসময়ে প্রচন্ড ভীড় থাকে। বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় ভীড় অনেক বেশী। কিন্তু এখানে অর্থ পাঠাতে এসে বাংলাদেশীরা বিভিন্ন দুর্ভোগে পড়েন। সোনালী এক্সচেঞ্জের কর্তৃপক্ষের বিড়ম্বনার কারণে সোনালী এক্সচেঞ্জ অনেক গ্রাহক হারাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষের বিড়ম্বনার একটি প্রধান উদাহরন হচ্ছে তারা বিনা কারনে হঠাত্‌ করে সোনালী এক্সচেঞ্জ বন্ধ করে নোটিস ঝুলিয়ে দেন। কয়েকজন গ্রাহকের অভিযোগ তারা এখান থেকে কখনোই টাকা পাঠাতে পারেননি। একজন গ্রাহক বলেন, লোক বেশী হলে সবাই লাইনে দাঁড়াবে। যার সময় কম সে হয়তো অন্য কাজ থাকলে তা শেষ করে ফিরে আসবে। কিন্তু লোকজনকে লাইনে দাঁড়ালোর সুযোগ না দিয়ে কেন দরজায় লেখা থাকলে -এখন বন্ধ। তাছাড়া দরজার কলিং বেলটিও অনেকদিন ধরে অকেজো। ভিতর থেকে কেউ দয়া করে খুলে দিলে তবেই ঢোকার সুযোগ হয়। অনেকে বলেছেন, আমেরিকাতে থেকেও তারা বাংলাদেশী স্টাইলে অফিস চালাচ্ছেন। এগুলো দেখার যেন কোন লোক নেই!

এব্যাপারে জ্যাকসন হাইটস শাখার ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, সাধারণত অন্য সময় এই ব্যবস্থা হয় না। ঈদের সময় আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছি। ৩টা পর্যন্ত যারা লাইনে থাকে তাদের ভিতরে ঢুকাই। এদের সার্ভিস দিতেই সাড়ে ৪টা বেজে যায়। এর পর আবার নতুন করে লোক ঢুকানো হয়। এদিকে সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রাহকদের অনুরোধেই এ নিয়মটি চালু হয়েছে। কিন্তু সময়ের হেরফেরের কারণে সোনালী এক্সচেঞ্জ যে গ্রাহক হারাচ্ছেন এই বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। এছাড়া সরকারের যে ক্ষতি হচ্ছে এবং সোনালী এক্সচেঞ্জের ভাবমূর্তি নষ্ট সেই বিষয়টি আমলে নিলেন না।

সোনালী এক্সচেঞ্জ অনেক দিন থেকেই ইন্টারনেট সার্ভিস চালু করেছে। তাতে গ্রাহকরা ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঘরে বসে ইন্টারনেটে পাঠাতে পারেন। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে গ্রাহকদের কিছু বলেন না। এমকি পেপার-পত্রিকায় সোনালী এক্সচেঞ্জের বিজ্ঞাপন দেয়ার সময়ও তারা এ ব্যাপারে হাইলাইট করেন না। শুধু এক কোনে এত ছোট করে ওয়েবসাইটের নামটি লেখেন যে তা কারো চোখে পড়ারই কথা না। অথচ ভালো সেবা দেয়ার ইচ্ছে থাকলে তারা গ্রাহকের এই সুবিধাটা নেয়ার জন্য বলতে পারেন। গ্রাহকরাও তাদের সময় আর লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকে বাঁচার জন্য এ সুবিধা লুফে নেবে। তা না করে কেন যে তারা এ ব্যাপারে কাউকে না জানিয়ে গোপন করে চলেছেন, সেটাও অনেকের বোধগম্য নয়।

নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, মেরিল্যান্ড এবং মিশিগান -এর যেকোন এলাকা থেকেই ইন্টারনেটে সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো যায়। আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য ব্রাউস করুনঃ http://www.sonaliexchange.com

[সূত্রঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা, ডিসেম্বর ২২, ২০০৬]

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!