স্বামী বশীকরণ তাবিজের হাদিয়া ৩০০ ডলার, হুজুরের দৈনিক আয় ১২ শতাধিক ডলার
প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থ উপার্জন করছেন কোন কোন মসজিদের বড় হুজুরেরে। কোন কোন হুজুর (ইমাম) দৈনিক ১২০০ ডলারের বেশি আয় করছেন। দিন যত যাচ্ছে তাদের আয়ের পরিমানও তত বাড়ছে। প্রায় প্রতিটি মসজিদ পরিচালিত হচ্ছে মুসুল্লীদের দানের অর্থ দিয়ে। এ অর্থ থেকেই হুজুর ইমামদের বেতন-ভাতা চলছে। সুতরাং মুসুল্লী যত বাড়ছে, হুজুর ইমামদের আয়ও তত বাড়ছে।
নামাজের পর মুসুল্লীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ব্যয়ের ক্ষেত্র হিসাবে মসজিদ ভবন সংস্কার, পু্নঃনির্মান, ইমামদের বেতন, বিদ্যুত, পানি, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাতি দেখানো হয়। সেই সাথে রয়েছে বাংলাদেশ অমুক এতিমখানা, মাদ্রাসা, মক্তবে সাহায্য; রয়েছে ইমামদের রেফারেন্সে অমুক হুজুরের জন্য কিছু দেয়া ইত্যাদির নামে অপূর্ব চাঁদাবাজি। নামাজ শেষে এগিয়ে দেয়া হয় “দান বাক্স” বা চাঁদার থলে। অন্য মুসুল্লীদের সামনে বিব্রর হবার ভয়ে, মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাদের কাছে ছোট হবার ভয়ে মুসুল্লিগনও পকেটে টাকা নিয়েই আসেন। যার যা সাধ্য, তততাই দিচ্ছেন বিনাবাক্যে।
অথচ এই চাঁদার সাথে মসজিদের আয়-ব্যয়ের, বিশেষ করে ইমামদের আয়ের কোন সম্পর্কই থাকার কথা না। তাদের একটি নির্দিষ্ট মাসিক ভাতা আছে। তবে এর বাইরেও তাদের আছে নানা আয়। সাপ্তাহিক ছুটিতে আগত ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া ফি-র পুরোটাই যায় ইমামদের ও সহকর্মী হুজুরদের পকেটে। এক মসজিদের উদাহরণ দেয়া যাক। ঐ মসজিদে ছাত্র-ছাত্রী ১৫০ জন। মাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয়া হয় ১০০ ডলার করে অর্থাত্ মাসে ১৫০০০ ডলার। ১৫ জন আসেন কোরানে হাফেজ হতে। তারা দেন ১০০ ডলার করে ১৫০০ ডলার। এর পুরোটাই যায় ইমামের পকেটে। তাছাড়া নিয়মিত অনুষ্ঠানতো আছেই। এর বাইরেও রয়েছে অনেক খাত। যেমন স্বামী বশীকরণের তাবিজ ৩০০ ডলার, স্ত্রী বশীকরণের তাবিজ ২৫০ ডলার থেকে ৫০০ ডলার, বিভিন্ন রোগের পানিপড়া, তাবিজ লেখার কালি-কলম কেনার নামে যা নিয়ে পারা যায়। অথচ এসব তাবিজে সাধারণ কাগজ কালিতে কোরানের কয়েকটি অক্ষর লেখা থাকে বলে জানা গেছে যার পুরোটাই হুজুরের বাটপারি।
ধর্মান্ধ প্রবাসীদের কাছ থেকে তাদের কষ্টার্জিত পয়সা এভাবেই লুটে নিচ্ছে ভণ্ড ইমাম ও হুজুরেরা। এ থেকে সতর্ক থাকার জন্য প্রবাসের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়ও চলছে অনেক লেখা-লেখি। কিন্তু এসব উপদেশেও কাজ হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এসব ভণ্ডদের ভণ্ডামির ব্যাপারটা অনেকে ডলার খরচ হয়ে যাবার পর বুঝতে পারছেন। যারা পারছেন না তারা ডলার খরচ করেই চলছেন।
Evergreen Bangla Community
আস দোস্ত হুজুর হয়ে যাই…