গ্রীণকার্ড পেয়েই স্বামীর ঘর ছাড়লেন

গ্রীণকার্ডের চিঠি হাতে পেয়েই স্ত্রী তার অসুস্থ খালুকে দেখার কথা বলে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করেছেন। গৃহত্যাগের পরই ইমিগ্রেশন বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন গ্রীণকার্ড পাঠানোর নতুন ঠিকানা উল্লেখ করে। এ অবস্থায় টেক্সাসের একটি কোম্পানীতে কর্মরত স্বামী বেচারা নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

ভদ্রলোক দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকায় প্রবাসী এবং ভালো একটি কোম্পানীতে চাকরি করছেন। গত ২০০৪ সালে দেশে গিয়ে পারিবারিক পছন্দে ময়মনসিংহের এক উচ্চ শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করে ২০০৫-এর অক্টোবরে আমেরিকায় নিয়ে আসেন। প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি। ভেবেছিলেন অন্য স্টেটে খালুর বাসায় কিছুদিন থেকে ফিরে আসবেন। কিন্তু গ্রীণকার্ড পীক-আপের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি তাকে বিমর্ষ করে। এর পর বার বার ফোন করছেন কিন্তু ফিরছেন না স্ত্রী।

জানা যায়, স্বামীর সাথে স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য ৯/১০ বছরের। এছাড়া অন্য কোন অসঙ্গতির কথা কেউ বুঝতে পারছেন না। স্বামীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তাও জানা যাচ্ছে না ভদ্রমহিলা কলব্যাক না করায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, দেশে গিয়ে পারিবারিক বা বন্ধু-বান্ধবদের পছন্দে বিয়ে করে আমেরিকায় নিয়ে আস স্ত্রীদের অনেকেই এভাবে চলে গেছেন। গ্রীণকার্ড প্রাপ্তির পরই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় অনেকে এ নিয়ে নানা কথা বলছেন। যদিও স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীদের অভিযোগ অনেক, তবুও গ্রীণকার্ড প্রাপ্তির পরপরই এধরনের ব্যাপারটি স্ত্রীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগকে খাটো করছে। প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে গত এক দশকে এ ধরনের প্রায় ৫ শতাধিক বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজ বিজ্ঞানীরা এ প্রসংঙ্গে কয়েকটি কারণ দেখিয়েছেনঃ

  • দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে গিয়ে একেবারেই অপরিচিত কাউকে বিয়ে করা
  • বয়সের খুব ব্যবধান
  • মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশী হওয়া
  • ছেলের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার চেয়ে মেয়ের পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থা উন্নত হওয়া
  •  বাংলাদেশ থেকে আসার আগে স্বামীর জীবনযাত্রা সম্পর্কে যে ধারনা থাকে, আমেরিকায় এসে বাস্তবে তার মিল না পাওয়া
  • আমেরিকায় এসে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিয়ের পূর্বের প্রেমিকের জন্য মন আবার কোমল হওয়া

আবার এর উল্টোটাও ঘটছে। কালচার সম্পর্কে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেননি- এমন নবপরিণীতা হঠাৎ করে আমেরিকান কালচারে এসে নিজেকে সামলাতে পারেন না। আমেরিকানদের মত হতে চান। এ কারণেও স্বামীর সাথে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। স্বামীর বন্ধুদের প্রতি দৃষ্টি পড়ে।

এ ঘটনা থেকে উত্তরণের পথ হিসাবে মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজ বিজ্ঞানীরা বলেছেন, দেশে গিয়ে হঠাৎ বিয়ে করা বা টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে করার মনোভাব ত্যাগ করা উচিত। বিয়ের আগে পরস্পর সম্পর্কে ন্যুনতম একটা ধারণা থাকা উচিত এবং তারপরই বিয়ের কাজটি সমাধা করা উচিত।

উত্সঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা, ২০০৬.১০.০৬   

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!