মুসলমানদের জিহাদ নিয়ে মন্তব্যে করে তীব্র সমালোচনার মুখে পোপ
ইসলামী জিহাদ সম্বন্ধে রোমান ক্যাথলিক ধর্মসম্প্রদায়ের প্রধান পোপ বেনেডিক্টের জার্মানী সফরকালে রেগেন্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া সাম্প্রতিক মন্তব্য শুনে শ্রোতাদের মতে ভ্যাটিকানের ইসলাম-বিরোধিত রীতিমতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও ভ্যাটিকান থেকে বলা হয়েছে, পোপ আদৌ ইসলামের বিরোধিতা করেননি। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য পোপ বেনেডিক্ট ওই মন্তব্য করেন নি, বরং পোপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন ইসলামকে হিংসাত্মক ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর সেটি ঈশ্বরের ইচ্ছার পরিপন্থী। কিন্তু মুসলিম সমাজের সমালোচনা নিরসনে ভাটিকানের দেওয়া এ বিবৃতি ব্যর্থ হয়েছে।
ভাটিকানের সরকারী মুখপাত্র ফাদার ফ্রেডেরিকো লম্বার্ডি যিনি জার্মানী সফরে পোপের সঙ্গী ছিলেন, তিনি পোপের মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে তা কমিয়ে আনার চেষ্টায় পোপের পক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন জিহাদের সত্যিকার অর্থ গভীরভাবে অনুসন্ধান করার কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে পোপ বেনেডিক্ট কোনো মন্তব্য করেন নি।
পোপ তাঁর জন্মভূমি জার্মানী সফরের সময় জিহাদ বা ধর্মযুদ্ধ প্রসঙ্গে চতুর্দশ শতাব্দীর একজন খৃষ্টান সম্রাট কনস্টানটিনোপলের দ্বিতীয় ম্যানুয়েলকে উদ্ধৃত করেন যেখানে দ্বিতীয় ম্যানুয়েল পালিওলোগাস জনৈক পারসি দর্শনার্থীকে বলছেন যে নবী মোহম্মদ বিশ্বে সহিংসতা ছাড়া আর কিছুই আনেন নি। পোপ বলেন, ইসলামে ‘জিহাদ’-এর ধারণায় অন্তর্নিহিত রয়েছে হিংসা আর যুদ্ধের কথা। পালিওলোগাস বলেছিলেন, “মহম্মদ নতুন কী তত্ত্ব এনেছেন পৃথিবীতে? শুধু অমানবিকতা আর হিংসা। তরোয়ালের উপর ভর করে ধর্মপ্রচার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মহম্মদ। এ থেকেই স্পষ্ট, ইসলাম আদতে কী চায়। যে ভাবে জোরজবরদস্তি করে অন্য ধর্মালম্বীদের ইসলামে দীক্ষিত করা হয়, তা থেকেই বোঝা যায় ইসলাম যুক্তিবাদ আর ঈশ্বরের ইচ্ছার বিরোধী।” এর পরেই ঘৃণা আর জঙ্গিবাদের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
পোপের এই মন্তব্যে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে।
উত্সঃ বিবিসি বাংলা, আনন্দবাজার পত্রিকা, ২০০৬.০৯.১৪
Evergreen Bangla Community


পোপের মন্তব্য নিয়ে মুসলিম বিশ্বে ক্রমবর্ধমান সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের সংসদ সদস্যরা। পাকিস্তানের সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া এক প্রস্তাবে বলা হয় পোপের মন্তব্য অপমানজনক এবং তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে।
ওদিকে ভ্যাটিকানের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে মুসলিমদের অনুভুতিতে আঘাত দেয়া পোপের উদ্দেশ্য ছিল না, তিনি এ\\\’কথা বোঝাতে চেয়েছিলেন যে ধর্মের নামে সহিংসতা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। খবর বিবিসি\\\’র। আমি ভাবছি কিসের থেকে দৃষ্টি ফেরাতে এই নতুন বিতর্ক।