প্রবাসীদের দেশপ্রেম অনেক বেশী - শিল্পী ফরিদা পারভীন

“আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশে আমরা যারা রয়েছি তাদের চেয়ে প্রবাসীদের দেশপ্রেম অনেক বেশি। তাছাড়া মানুষকে কিভাবে ভালোবাসতে হয় তা শিখানোর জন্য প্রত্যেক বাংলাদেশীকে বিদেশে পাঠানো উচিত বলে আমি মনে করি।” গত ২৭শে জুলাই ঢাকা ক্লাবে তানভীর শাহীনের থ্রি এম মাল্টি মিডিয়া আয়োজিত বাংলাদেশের জনপ্রিয় লালন সঙ্গীত শিল্পী লালনকন্য খ্যাত ফরিদা পারভীন এ কথা বলেন। সঙ্গীত পরিবেশনের শুরুতে শিল্পী ঙ্করিদা পারভীন বলেন, “এখন তো অনেক গান হচ্ছে- হারনো দিনের গান, পুরনো দিনের গান। আমার কাছে সেইগুলো নেই। আমার কাছে আছে দেশাত্ববোধক এবং মুক্তিযুদ্ধের গান। এ ছাড়াও রয়েচে বিশুদ্ধ বাংলা গান।

তিনি উপস্থিত সকল দর্শকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশাত্ববোধক গানের মাধ্যমে তার সঙ্গীত সন্ধ্যা শুরু করেন। শিল্পী ফরিদা পারভীন তার জনপ্রিয় গান ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা-সুরমা নদী তটে’ গানটি তার কন্ঠে ধারনের সাথে সাথেই অডিটোরিয়ামে অন্য রকম একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক্ষণিকের জন্য সবাই যেন বাংলাদেশে ফিরে গেলেন। ফরিদা পারভীন শুধু সঙ্গীত পরিবেশন করেননি- গানের মাঝে মাঝে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গীত নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আমি সঙ্গীত নিয়ে প্রতারণা করি না।” এরপরই শিল্পী ১৯৯৩ সালে যে গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন সেই ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিলো পায়ে, প্রেমের কী স্বাদ আছে বলো’ গানটি গেয়ে শোনান। এই গানটি হলে উপস্থিত সকল শ্রোতা তন্ময় হয়ে উপভোগ করেন। যার জবাবে শিল্পী বলেছিলেন, “আমি মনে হয় আপনাদের হৃদয় স্পর্শ করতে পেরেছি।” তারপরই তিনি পরিবেশন করেন তার জনপ্রিয় গান ‘তোমরা ভুলে গেছ মল্লিকাদের নাম’। তিনি তার পরবর্তী সঙ্গীত পরিবেশন করেন মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান নিবেদন করে- ‘ঐ পাখিরে আয় দেখে যা কেমন আছি’। এই গানটি পরিবেশনের পূর্বে তিনি বলেন, “আমি যদি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সন্মান জানিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন না করি- তাহলে মনে বড় কষ্ট পাবো। এই গানটির কথায় বলছে ভালো আছিম কিন্তু সুরে বেদনা লুকিয়ে আছে। এই সময় শিল্পীসহ সবাই আগেব আপ্লুত হয়ে পড়েন। শিল্পীর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো। আবেগ দ্বারা তাড়িত হবার কারণে এই পর্বে শিল্পী আর মাত্র একটি গান পরিবেশন করেন।

প্রবাসে সকলের আতিথেয়তা এবং শিল্পীর প্রতি সন্মানবোধ দেখে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সবাইকে বিদেশে পাঠানো উচিত- তাহলে তারা কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয় শিখতে পারতো।” দুই পর্বে বিভক্ত এই সঙ্গীত সন্ধ্যার দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি পরিবেশন করেন লালনের জনপ্রিয় গানগুলি। তিন ঘন্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিল্পী ফরিদা পারভীনের পরিবেশনা অডিটোরিয়ামে উপস্থিত সকল দর্শক প্রাণভরে উপভোগ করেন।

উত্সঃ সাপ্তাহিক ঠিকানা, ২০০৬.০৮.০৪

Post Your Comments

All comments are subject to editorial review and decision.

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Free Membership. Join Now!